সিসিক নির্বাচনে “নতুন মেয়র-নতুন স্বপ্ন” এমন দাবী জোরালো হয়ে উঠছে

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৮

সিসিক নির্বাচনে “নতুন মেয়র-নতুন স্বপ্ন” এমন দাবী জোরালো হয়ে উঠছে

Manual6 Ad Code

আনোয়ার হোসাইন :: আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে “নতুন মেয়র – নূতন স্বপ্ন- নতুন কিছূ” এমন দাবী জোরালো হয়ে উঠছে । হজরত শাহজালাল, শাহপরান ও তিনশত ষাট আউলিয়ার স্মৃতি ধন্য ও আলেম-ওলামা অধ্যূষিত আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের জন্য এমন মেয়র দরকার, যিনি কোরআনে বণি’ত দায়িত্ব পালন করবেন।অফিসে নামাজ চালূ করবেন। যাকাত চালূ করে আট শ্রেণীর গরিবদের নিকট প্রাপ্য হক পৌঁছে দিবেন। সমাজের জন্য সব ভাল কাজ চালু করবেন। অসত ও অন্যায় এমন সব বন্ধ করবেন। পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবেন। ইনসাফ ভিত্তিক বন্ঠন করবেন। সেই সাথে নগরীর উন্নয়নে বিশ্ব মানের আধুনিক সিলেট নগরী গড়ে তুলবেন। পয’টন নগরী হিসাবে সিলেট কে সেই ভাবে সাজাবেন। একই সাথে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত ও দূনী’তির উধ্বে’ থেকে পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করবেন। আলোচনায় এ সব দিক গূরূত্বপূণ’ হয়ে ওঠছে। পূরাতন দুই মেয়র তাদের যোগ্যতা অনূযায়ি সিলেট কে অনেক কিছু দিয়েছেন। এখন সিলেটবাসী নতুন কোন এক নেতা চাই। “নতুন মেয়র – নতূন স্বপ্ন-নতুন কিছূ” এমন কথা ভোটারদের মাঝে আলোচনা চলছে। সিলেট নাগরিক ফোরাম সমথি’ত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রাথী’ এডভোকেট জোবায়ের কে নিয়ে সব’মহলে এসব আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে । গত শুক্রবার এক সৌজন্য সাক্ষ্যতে প্রবীন রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি আব্দূল মূকিত খান বলেন, এখন অনেক নেতার মূখ থেকে মদের গন্ধ বের হয়। এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য জোবায়ের এর মত লোকদের এগিয়ে আসা সময়ের দাবী। এ রকম নানা কথা বলছেন অনেকে। এদিকে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি ও জামায়াত কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। তাকে ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী ঘোষণার জন্য জামায়াত সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালালেও বিএনপি তাতে সাড়া দিচ্ছে না। উল্টো তারা তাদের দলীয় প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন জানাতে বলছে। এখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। উভয় দলই নিজের মতো করে চালিয়ে যাচ্ছে প্রচারণা। আরিফূল হক ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উভয়ই চাচ্ছেন একে অপরের সমর্থন। অপর দিকে, সিলেটে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া শরিকদের মধ্যে খেলাফত মজলিস ও জমিয়তেরও অনেক সমর্থক রয়েছেন। একটি সূত্র জানায়, জামায়াত নিয়ে বিএনপি যতটা না বিচলিত তার চেয়ে বেশি শঙ্কিত দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বদরূজ্জামান সেলিম কে নিয়ে। এছাড়া, গতবুধবার বি এনপি নেতা সামসূজ্জামান জামান নিবা’চন বজ’নের ডাক দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন, নির্বাচন চাই না- খালেদা মূক্তির আন্দোলন চাই। ফলে চরম বেকাদায় পড়েছেন আরিফ।এ দিকে, জামায়াতের মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পক্ষে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দেশের একটি মাত্র সিলেট সিটিতে জামায়াত প্রার্থীকে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন দেয়া হবে এমন প্রত্যাশা ছিল নেতাকর্মীদের। কিন্তু সে প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। তবে, তারা চালিয়ে যাচ্ছেন জুবায়েরের পক্ষে প্রচারণা। সিলেটে সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্তিশালী জামায়াত। সরকারের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও নীরবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ক্লিন ইমেজের অধিকারী জুবায়ের সিটি নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন লাভে সক্ষম হবেন এমন আশাবাদ তার সমর্থকদের।

Manual3 Ad Code

এর আগে গত বুধবার বিকেলে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ফোন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানকে। তারেক জামায়াত নেতাকে সিলেট থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করলে ডা. শফিক তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সিলেটে মেয়র প্রার্থী জামায়াত থেকে হবে, এই অঙ্গীকার ২০১৩ সালে আপনি করেছিলেন। তখন আপনি বলেছিলেন, পরের বার সিটি নির্বাচনে অবশ্যই ২০দল জামাতের প্রার্থীকে সিলেটে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবে। এখন আবার আপনারা অন্য কথা বলছেন কেন?
একাধিক সূত্র বলছে, ডা. শফিক অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতকে ধ্বংস করতে বিএনপি ভারতের সঙ্গে আঁতাত করেছে। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীরা চাইছে নির্বাচনে থাকতে। এটা দলের অস্তিত্ব জানান দিতে আমাদের জন্য খুবই দরকার।’জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা সিলেটে থাকছি। এটা আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। এ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। এদিকে,গতবৃহস্পতিবার সিলেটের প্রশাসন, সকল রাজনৈতিক দল
আওয়ামীলীগ, বিএনপি,জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, পেশাজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। কিন্তু এই নগরীর প্রতিনিধিত্বশীল অপরাপর রাজনৈতিক দল যেমন জামায়াতে ইসলামি, খেলাফত মজলিস, জমিয়ত, ইসলামি ঐক্যজোট,লেবার পাটি’, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সহ সংশ্লিষ্ট দলের কোন নেতাকে উপস্থিত দেখা যায়নি। সিলেট নগরীর বিশিষ্ট অনেক কে ডাকা হয়নি। এতে নগরীর সচেতন মহলের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । বৈঠকে ডাকা হয়নি, সংশ্লিষ্ট দলের এমন কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিলেটের একতা ও ঐতিহ্য নষ্ট করার যে কোন ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে সিলেটবাসী প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ৩০জুলাই আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে নগরবাসী ‘নতুন মেয়র-নতূন স্বপ্ন’ এর মাধ্যমে এ সব ষড়যন্ত্রের জবাব দিবে।

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..