রুমিও জুলিয়েটের প্রেমের ঘটনায় উপশহরে মারামারি তোলপাড়!

প্রকাশিত: ১:২০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০১৮

Sharing is caring!

ডেস্ক রিপোর্ট :: রুমিও জুলিয়েটের প্রেম কাহিনী জগত জোড়া। রুম পুড়ছিল, তখন নীরু বাঁশি বাজাচ্ছিলেন নিজ গরজে। সেই দিন নেই, সেই কাল্ও নেই, তবে এখনও প্রেম আছে নানা পথে পথে। আগে প্রেমের গতিপথে বাধা ছিল, অর্থ, বিত্ত, বংশ মর্যাদা। এখন সেই পথে বাধা হয় আধিপত্য, ক্ষমতাশালীদের প্রতিহিংসা, বিশেষ করে রাজনীতিক কথিত নোংরা, অসৎ নেতারা এসব কিছুতেই নিজদের প্রভাব বজায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেন। এরকম একটি ঘটনা ঘটে গেছে নগরীর অভিজাত এলাকা উপশহরে।

সেই কাহিনী ঘর থেকে এখন বাজারে ঢাকডোল পিটছে। হয়েছে মারামারি, এর পর মামলা। স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক মেয়ের সাথে দীর্ঘ প্রেমের সাতকাহন চলছিল আব্দুল্লাহ আল মামুনের। চোখা চোখি, পরিচয়, পরিনয় অনেক কিছু। অনেক কিছু হওয়ার পর মামুনের প্রেমিকার ভাই সানির টনক নড়ে।

নিরবে অনেক ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করা হয়। কিন্তু প্রেম মানে না যে কিছুই, তা বুঝেন না হয়েতো সানি। তাই সিনেমার মতো নাটকীয় এক্যাশনে অবর্তীন হয়ে উঠেন নিজে। বোনের প্রেমিককে সামাল দিতে আশ্রয় নেন, বড় ভাই তথা এক রাজীতিক তথা এক স্থানীয় গড ফাদার তথা সাবেক এক স্থানীয় কাউন্সিলরের। আর যায় কোথায়। শুরু হয় চালের উপর চাল। দাবার চাল্ও হার মেনে যায় তার অসৎ মনের আগুনে।

সেই কারনে নিস্পাপ ছেলেগুলো জড়িয়ে পড়ে হানাহানি, রক্তারক্তিতে। বলে রাখা দরকার, ডিজিটাল সময়ের চাহিদায়, এখন প্রেমের নানা কাহিনী মিমোরি বন্দি হয়ে যায় নানা কায়দায়। প্রেম লীলার মজার এ কাহিনী প্রেমিক প্রেমিকার রোমাঞ্চকর জীবনের বিরাট এক শক্তি। তাই তারা জোর দিয়ে বলতে পারে আমাদের প্রেম কাহানী এখন মুঠোবন্দি। পরিবার বা অভিভাবক যখন প্রেমে বাধা হয়ে দাড়ান, তখন প্রেম লীলর স্মৃতির ভিডিও গুলো প্রেমিক প্রেমিকাকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসে।

কারন এই স্মৃতি তাদের সম্ভবল। এগুলো তাদের জীবনকে শিহরিত করে রেখেছে। কাহিনীর বাদ দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবন কখনো স্বাভাবিক হ্ওয়ার নয়। ভিডিও গুলো অন্য কারো সাথে নতুন জীবনের জন্য ভয়ংকর হয়ে দাঁড়ায়। সেকারনে তারা পরস্পরকে ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে। কিন্তু তাদের পথে যারা বাধা হয়ে দাড়ান তারা বুঝতে চান না, কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেম নিয়ে প্রেমিকার ভাই ফেইসবুকে ঝড় তুলেন বোনের প্রেমিক মামুনের বন্ধু শাহিনের সাথে। তারপর বাস্তবে নেমে পড়েন ঝগড়ায়।

মামুন ও শাহিন মিলে প্রেমিকার ভাইয়ের বন্ধু মুহাম্মদ সানিমকে তুলে নিয়ে, ধোলাই দেয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশের এক এসআইর এর অনুরোধ তারা ছেড়ে দেয় মুহাম্মদ সানিমকে। এরপরই যায় কোথায়, রাজনীতিক কালো ভূতের অশুভ ছায়া পড়ে মুহাম্মদ সানিমের উপর। তার ইশারা ইংগিতে পাল্টা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হয় শাহিন ও প্রেমিক মামুনের বাসায়। তারপর শেষ হয়নি ঘটনা। ১৩ মার্চ উভয় পক্ষ রাত ৮টায় পরস্পরের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে জড়ো হন তেরোরতন বাজারে । শুরু হয় মারামারি, এক পর্যায়ে প্রেমিক মামুনের উপর দায়ের কূপ দিতে যায় মুহাম্মদ সানিম।

কিন্তু তা ধরে ফেলে মিন্নত। তার আগেই দায়ের কূপ মিন্নতের কবজি গুরুতর জখম হয়ে যায়। পরস্পর মারামারিতে লিপ্ত হ্ওয়া দু’পক্ষই কিন্তু সাবেক এক কাউন্সিলরের অনুসারী। তাদের কেউ এখন তার সাথে, কেউ আবার এই পীরের মুরিদ এখন আর নয়। কিন্তু মুরিদরা তাকে ছেড়ে গেলেও তিনি তাদের পিছু ছাড়েননি এখনো । একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন, সাবেক এই কাউন্সিলর, রাজনীতিকের একাধিক ঘনিষ্টজন বা পারিবারিক অনেক সদস্য রয়েছেন যাদের প্রেম নির্ভর রসগল্পের প্রমানাধি রয়েছে সাবেক মুরিদানদের নিকট। এগুলো এতোই জীবন নির্ভর যে, বাজারে বের হলেই হয়ে যাবে হট কেক।

প্রভা-রাজীবের ভিডিও রগরগে কাহিনী হার মানাবে। তাই সাবেক এই কাউন্সিলর সুযোগ ফেলেই সাবেক মুরিদানদের মাথা কাটতে চান। কিন্তু মুরিদানরাও কম কিসে তারা সেই ভিডিও গুলো রেখে দিয়েছে সযতনে। সময়ের অপেক্ষায় শুধু। তারা দেখতে চায় কত দুর এগুতো পারেন তাদের পীর তথা কাউন্সিলর ! একদিন গুরু মারা শিষ্য হিসাবে অবর্তীন হয়ে তারা হাটে হাড়ি এমন ভাবে ভাংবে, তারপর শেষ বলতে কিছু থাকবে না সাবেক সেই কাউন্সিলর।

প্রেম কাহিনী নিয়ে মারামারি ঘটনায় ন্যায় বিচারের চেয়ে প্রতিপকে শায়েস্তা করতে যেয়ে সাবেক হামলায় আহত মিন্নতের অমতেই একাধিক রাজনীতিক নেতা ও কর্মীকে আসামী করেছেন এই কাউন্সিলর । এতে করে মুল ঘটনা চলে গেছে ভিন্নখাতে। মিন্নত্ও হাসপাতালে বসে স্বীকার করেছে, আসামীদের মধ্যে ৪জন ছাড়া বাকী কেউ এই ঘটনার সাথে সর্ম্পক ছিল না দূরতম। মিন্নত বলেছে, তার রাজনীতিক গুরু সাবেক কাউন্সিলরই এ মামলার মুল কারিঘর।

পুলিশও স্বীকার করেছে, তদবিরের খামে সাবেক কাউন্সিলরের নাম লেখা ছিল। নানা সূত্রে নিশ্চিত করেছে মিন্নত বা প্রেমিকার ভাই সামি বা তার বন্ধু মুহাম্মদ সানিম এখন সবাই সাবেক কাউন্সিলরের খেলার পুতুল। তিনি ঝোঁপ বুঝে কূপ মারতে গিয়ে নিজের পায়েই ছেদ মেরেছেন, যার প্রাশ্চিত্য তাকেই করতে হবে একদিন। আসামী ও বাদী এখন এক স্থানে স্থির, এখন তারা বুঝে নিয়েছে তাদের একমাত্র নেপথ্যে শক্র তাদের সাবেক গুরু / পীর/ সাবেক কাউন্সিলর।

তার ঘরের নীল কাহিনী স্তব্ধ করতে যেয়ে অন্যদের ব্যবহার করছেন তার প্রতিপক্ষ দমাতে। অন্যের মাথায় কাঠাল ভেংগে নিজে আড়ালে থেকে মজা নিতে চাইছেন তিনি। কিন্তু তার নিজের কামানো মজা ক্ষোভের বিস্ফোরনে ইন্টারনেটে ভাইরাল হতে পারে, তখন কোন মুখে পথ চলবেন সাবেক কাউন্সিলর এটাই দেখার পালা। অথচ সন্তানতুল্য ছেলেদের পারস্পরিক ঝগড়ায়, অভিভাবক হিসাবে সমাধান করে দিতে পারতেন তিনি। কিন্ত তা না করে কাটা দিয়ে কাটা তুলতে মরিয়া হয়ে গেলেন তিনি। তাদের জড়িয়ে দিলেন হয়রানী করাতে মামলায়। ঘরের খবর বাইরের বের করলেন। হয়তো তার ইচ্ছা নিজের টা যখন বাইরে গেছে পরের টা গেলে ক্ষতি কি ? এমন কথা বলছেন উপশহরের সচতেন মহল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2018
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares