শাহ আরেফিনের উরসের নামে টাকা ভাগাভাগি বন্ধের দাবী

প্রকাশিত: ২:০৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৮

ক্রাইম ডেস্ক :: তাহিরপুর উপজেলার শাহ আরেফিন মাজারের প্রতি বছর উরসের নামে আদায়কৃত টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায় একটি প্রভাবশালী মহল। উরস শেষে উত্তোলনকৃত টাকার হিসেবে নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলেও এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেননি। গেলবার আনুমানিক ২০ লাখ টাকা আয় হলেও হিসেব দেখানো হয় সাড়ে ১১ লাখ টাকা। মাজার কমিটি’র একাউন্টে জমা হয়েছে মাত্র ৭০ হাজার টাকা। এ বছরও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঘটবে নাকি ভাগাভাগি বন্ধ হবে এমনটাই প্রশ্ন সচেতন মহলের। খবর নিয়ে জানা যায়, শাহ আরেফিনের মাজারে উরস উপলক্ষে বসে কয়েক হাজার দোকানপাট। প্রতি দোকান থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এছাড়া আশেকান ভক্তদের দান-অনুদান ও মানতের টাকাসহ লাখ লাখ টাকা আয় হয়। এ আয়ের টাকা ভাগাভাগি করে নেন প্রভাবশালীরা। শাহ আরেফিন মাজার কমিটি’র সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হলেও এক যুগ ধরে নিয়ন্ত্রন করছেন এলাকার দুই প্রভাবশালী । উরস শেষে কমিটি’র সভাপতির একাউন্টে কিছু টাকা জমা দিয়ে ব্যায়ের পাল্লা ভারি করে পুরো টাকাই বাটোয়ারা করে নেয় এ চক্র। প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবেই চলছে হরিলুটের মহোৎসব। স্থানীয়রা জানান, আমাদের এলাকায় প্রতিবছর শাহ আরেফিনের মাজারে উরস বসে। এ উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লোকজন গরু, ছাগল ও দান-অনুদানের টাকা দেন। এছাড়া মাজারের পাশর্^বর্তী কয়েক হাজার দোকানের প্রতিটি কোটা থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার করে দোকান ভাড়া আদায় করা হয়। তিন দিনের উরস শেষে কর্মচারীদের বেতন, দোকান কোটা তৈরির ব্যায় ও কিছু অতিথিদের আপেল আর আঙ্গুর খাইয়ে দেয়ার খরচ বাবদ জোড়াতালি হিসেব দেখিয়ে পুরো টাকা চলে যায় প্রভাবশালীদের পকেটে। মাজারের আয়ের টাকা হরিলুট বন্ধের দাবী স্থানীয়দের। বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, আমি কোন সময় মাজারে দান-অনুদানের লিল্লাহ বা মানতের বাক্সে হাত দেইনা। যাইও না। তবে মাজারের উরসের সময় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা আয় হয়। এ টাকা কিভাবে কি হয় যারা কমিটিতে আছে তারাই ভাল বলতে পারবে। তবে সুষ্ঠু হিসাব হোক এটা আমিও চাই। বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব জানান, আমি ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে পদাধিকার বলে কমিটি’র সহ সভাপতি। গতবার শুনেছি সাড়ে ১১ লাখ টাকা আয় হয়েছে। কিন্তু ৭০ হাজার জমা দিয়ে বাকী টাকা ব্যায় দেখানো হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে জালাল চাচা ও সাংবাদিক ছাব্বির ভাল বলতে পারবে। মাজার কমিটি’র সহ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, উরসের সময়ে পুলিশের প্রতিনিধি, ইউএনও’র প্রতিনিধি, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক আলম ছাব্বির থাকে। ভলান্টিয়ার, টাকা কালেকশনকারি ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের উপর ব্যায় হয়। আয়ের টাকা কোন হেরফের হয়না। সব ঠিক আছে। মাজার পরিচালনা কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক আলম ছাব্বির বলেন, গেলবার আয়ের সাড়ে ১১ লাখ টাকার মধ্যে ৯৩ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। এর মধ্যে ৭০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা আছে। আর বাকি ৩০ হাজার টাকা কোষাধ্যক্ষ নুরুল আমিনের কাছে আছে। বাকি টাকা বিভিন্ন উন্নয়নখাতে ব্যায় হয়েছে। কোন অনিয়ম কিংবা ভাগাভাগি হয়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, গত বছরের হিসাব ইউএনও’র কাছে বুঝিয়ে দেয়া কথা ছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুর্নেন্দু দেব বলেন, এ বছর কোন অনিয়ম করতে দেয়া হবেনা। মিটিং বলে দেয়া হয়েছে। আয়ের একটি অংশ একাউন্টে জমা হবে। আমার লোক যাবে দোকান কোটাসহ সব হিসেব-নিকেশ করে দেখে আসবে।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2018
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..