বিজিবির মদদে জাদুকাঁটায় চলছে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন!

প্রকাশিত: ২:২২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

Sharing is caring!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রিত জাদুকাঁটায় (লাল বৃত্ত চিহ্নিত) সারি সারি সেইভ মেশিনে স্বাভাবিক পরিবেশ বিপন্ন করে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু-পাথর। রোববার দুপুর বারেকটিলার উপর থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পর্যটক বান্ধব সীমান্ত নদী জাদুকাঁটায় এবার ইঞ্জিন চালিত সেইভ মেশিন দিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ চলছে সীমান্তরক্ষী বিজিবির কিছু অসৎ সদস্যের মদদে।

অভিযোগ ওঠেছে, ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ন বিজিবির সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বিওপির বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার চালকের আসনে থেকে ব্যাটালিয়ন এফএস ও বিএসবি সদস্য এ তিন বিজিবির সদস্য মিলেমিশে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিপন্ন করে অবৈধভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সারি সারি সেইভ মেশিন দিয়ে সরকারি রাজস্ব বঞ্চিত করে বালু পাথর উত্তোলন কাজে গোপনে মদদ যুগিয়ে যাচ্ছেন।

সরকার রাজস্ব বঞ্জিত হলেও পরিভেম বিপন্নের বিনিময়ে সেইভ মালিকদের নিকট থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে উৎকোচ নিয়ে বেশ দাপটের সাথে গত দু’মাসের অধিক সময় ধরে নদীর পরিবেশ ধ্বংস যজ্ঞ’র কাজে মদদ যুগিয়ে যাচ্ছেন বিজিবির ওই তিন সদস্য। দেখার যেন কেউ নেই!’ অবশ্য ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ কিংবা অধিনায়ক সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে এলে সকাল থেকেই ওই তিন গুণধর বিজিবির টহল দলকে ব্যবহার করে সেইভ মেশিনগুলো নদীর চর থেকে কৌশলে সরিয়ে ফেলেন দ্রুততার সাথেই। এতে করেই বার বার রক্ষা পেয়ে যাচ্ছেন তারা।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারাদেশে পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের নিকট সু-পরিচিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় বিওপির পশ্চিমে ও বারেকটিলার খেয়াঘাটের দক্ষিণ দিক থেকে বাজার পর্যন্ত সীমান্ত নদীর জাদুকাঁটার বুঁকে প্রায় এক কিলোমিটারের অধিক নৌ-পথ জুরে ছোট বড় প্রায় ৭০ থেকে থেকে ৭৫টি ইঞ্জিন চালিত নৌকার ওপর সেইভ মেশিন বসিয়ে চলছে অপরিকল্পিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ।

কয়েক শতাধিক শ্রমিক ও সেইভ মালিকগণ অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করলেও দেখখেও দেখছে অসাধূ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে নদীর সৌন্দর্য। এর দায় নিবে কে? প্রশ্ন স্থানীয়দের।

বারেকটিলায় বসবাসরত স্থানীয় লোকজন ও কর্মরত শ্রমিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত প্রায় দু’মাস ধরে লাউড়েরগড় বিওপির বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন এফএস ও বিসএবি এফএস সদস্য এ তিন বিজিবির সদস্য মিলেমিশে গোপনে সেইভ মালিকদের নিকট থেকে ব্যাক্তিগত সোর্স’র মাধ্যেমে প্রতি সেট (৩টি সেইভে ১ সেট) ১৫’শ টাকা হারে উৎকোচ নিয়ে ১৩ থেকে ১৫ সেট সেইভ মেশিন দিয়ে পরিবেশ আইন পরিপন্থি উপায়ে বালু-পাথর উত্তোলনের কাজে মমদ যুগিয়ে যাচ্ছেন।

এ কারনে এলাকার গরীব শ্রমজীবী হাজারো শ্রমিক নদীর এ অংশজুড়ে কয়লা, লাকড়ি কুড়ানো ও হাত দিয়ে বালু পাথর উত্তোলন করতে পারছেন না। একটি নির্ধারিত সিন্ডিক্যাট তৈরী করে নদীর এ চরে প্রভাবশালী বালু-পাথর খেকো চক্রকে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত করে বারেক টিলার নিচে কোটি কোটি টাকার বালু-পাথর মজুদ করার জন্য একাধিক ডিপোতে ডাম্পিং করার কাজেও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সিন্ডিক্যাটের স্বার্থ রক্ষায় সহায়তায় করছেন বিজিবির ওই তিন সদস্য।

অভিযোগ রয়েছে- বিজিবির ওই তিন দায়িত্বশীল সদস্য প্রতিদিন ব্যাক্তিগত সোর্সের মাধ্যমে সেইভের সেট প্রতি ১৫’শ টাকা উৎকোচ আদায় করাচ্ছেন। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের নিকট কিংবা অন্য কোন সংস্থায় মুখ না খোলার জন্য এলাকার প্রতিবাদী লোকজন ও সাধারণ শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত শাসিয়ে যাচ্ছেন ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষের সেইভ চালানোর অনুমতি এ অজুহাত সৃষ্টি করে। আর অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলনে বিজিবির ওই তিন বেপরোয়া সদস্য ব্যাক্তিগতভাবে লাভবান হলেও টহলের নামে ধারাবাহিকভাবে বিওপির বিজিবির সদস্যদের প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে সেইভ মেশিনে বালু পাথর উত্তোলন কাজ নির্বিঘেœ চালিয়ে যাবার পাহাড়া দেয়ার দায়িত্বে খাটাচ্ছেন। যেন কেউ ওই সব সেইভ মেশিনে বালু-পাথর উত্তোলন কাজের ছবি তুলতে না পারে কিংবা বাঁধার সৃষ্টি না করতে পারে।

নদীর পরিবেশ বিপন্ন করে সেইভের অবৈধ আয় রোজগারের উৎসকে জায়েজ করতে ও নিজেদেরকে করিৎকর্মা সাজাতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনের নামে ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষের সূ-নজরে থাকার জন্য ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. কেরামত আলী ও ব্যাটালিয়ন এফএস নায়েক মো. মাহফুজুর রহমান বিএসবি এফএস নায়েক মো. সাজেদুল ইসলাম তারা যৌথভাবে দাপটের সাথে চালিয়ে সীমান্ত আয়ে নিজেরা ফুলে ফেঁপে উঠলেও দায়িত্বশীলরাও তাদের এ ধরণের শুভংকরের ফাঁকি রুখতে পারছেন না রহস্যজনক কারনে।

২৮-বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ব্যাটালিয়ন এফএস নায়েক মাহফুজুর রহমানের নিকট জাদুকাঁটা নদীতে সেইভ মেশিনে বালু পাথর উত্তোলন ও সোর্সের মাধ্যমে উৎকোচ নেয়ার প্রসঙ্গে সবিস্থারে অবহিত করে বক্তব্য জানতে রোববার বিকেলে যোগোযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন রকম সদোত্তর না দিয়ে বললেন, “ভাই স্যার (ক্যাম্প কমান্ডার নাকি) আপনার সাথে কথা বলেছেন, তাহলে তো সমস্যা থাকার কথা নয়, আমিও আপনার সাথে পরে কথা বলব বললেও পরবর্তীতে আর এ বিষয়ে তিনি কোন রকম বক্তব্য প্রদান করেননি।”

বিএসবি এফএস নায়েক মো. সাজেদুল ইসলামের নিকটও রোববার বিকেলে একই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেন।

২৮-বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির সুনামগঞ্জের লাউড়েরগড় বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার কেরামত আলীর নিকট এ বিষয়ে জানতে রোববার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন রকম সদোত্তর না দিয়ে বললেন, দু’তিনটি সেইভ মেশিন লাউড়েরগড় বিওপির পশ্চিমে ও বারেকটিলার নিচে চলতে পারে।

“বক্তব্য জানার এক ফাঁকে তিনি বলে উঠলেন- আসেন একদিন ক্যাম্পে আপনার দাওয়াত রইলো।”

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে তিনি ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার কথা বললেও পরবর্তীতে বলেন, ‘রিপোর্ট তৈরী করার দরকার নাই, স্বাক্ষাত হলে আলাপ হবে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2018
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares