সিলেটে অ্যাকশনে পুলিশের স্পেশাল টিম ‘সিআরটি’

প্রকাশিত: ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০১৮

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সোয়াট ও র্যা বের সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে আরো একটি বিশেষায়িত বাহিনী ‘সিআরটি’ টিম গঠন করা হয়েছে। চিটাগাং খাগড়াছড়ি থেকে ৮ সপ্তাহের জঙ্গি দমনে স্পেশাল কমান্ডো ট্রেনিংপ্রাপ্ত এই টিম নিরাপত্তাজনিত যেকোন ক্রাইসিস মোকাবেলায় পারদর্শী। প্রায় ২ মাসের ট্রেনিং শেষে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি সিলেটে যোগদান করেন ২০ সদস্যের এই এলিট ফোর্সের সদস্যরা।

আনুষ্টানিকভাবে কোন ক্রাইসিসে ডাক না পরলেও গত মাসে সিলেটে বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদারে সিআরটি টিমের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিলো। তবে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’ ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল ওরফে শফিকুরকে আজ আদালতে হাজির করার সময় সিআরটি টিম ছিল অ্যাকশনমুখী। জঙ্গি তৎপরতায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সন্দেহে সতর্ক অবস্থানে ছিলো সিআরটি টিম।

বিশেষায়িত বাহিনী ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) সদস্যদের হাতে ছিলো বিশেষ আগ্নেয়াস্ত্র, শরীর ছিলো ভারী বর্মে আবৃত, ব্যালিস্টিক ঢাল, এন্ট্রি টুলসসহ উন্নত অস্ত্রশস্ত্র। যেকোন ক্রাইসিস মোকাবেলায় স্পেশাল ট্রেনিংপ্রাপ্ত এই টিম নিরাপত্তাজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় ছিলো পুরোপুরি প্রস্তুত।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের অধীনে ২০ সদস্যের এই স্পেশাল কমান্ডো টিমের কমান্ডার হিসেবে রয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার পলাশ রঞ্জন দে।‘স্পেশাল সিআরটি টিম যেকোন নিরাপত্তাজনিত ক্রাইসিসে সেবা দিতে প্রস্তুত। তিনি জানান, এই টিমটি অনেকটা ‘সোয়াত’ টিমের আদলে গড়া হয়েছে, দেওয়া হয়েছে স্পেশাল কমান্ডো ট্রেনিং।’

তিনি আরো জানান, জঙ্গিদের কাছ থেকে আক্রান্ত জিম্মি ব্যাক্তিকে উদ্ধার, জঙ্গী হামলা-মোকাবেলায় অত্যাধুনিক উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী সিআরটি টিম। এমনকি জঙ্গিদের শক্তিশালী বিস্ফোরক বিধ্বংসে ও আত্মঘাতী জঙ্গী দমনেও পারদশী করে গড়ে তোলা হয়েছে সিআরটি টিমকে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম, সিলেটের শিববাড়ি, মৌলভীবাজারের দুটি জঙ্গী আস্তানা ধ্বংস করে আত্মঘাতী জঙ্গীদের দমন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সোয়াট ও র‍্যাব। আর তাই জঙ্গি দমনে আরো বেশী সফলতা পেতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কমান্ডো ইউনিট-সিআরটি যুক্ত হওয়ায় জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারনা সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে গুলশান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলায় জিম্মির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) গঠন করা হয়েছিল। কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সারা দেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্যও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই টিম তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2018
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares