বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে পুষে নান্দনিক সুনামগঞ্জ গড়তে চায় ব্যারিষ্টার এনামুল কবির ইমন

প্রকাশিত: 2:20 AM, January 21, 2018

আজিজুর রহমান:: শেখ আবদুল মজিদ। সম্পর্কে তিনি খোকার নানা। খোকা ছিলো মানুষটার ডাক নাম। পরিবারের লোকজন মায়া করে এই নামে ডাকতেন। নানা শেখ আবদুল মজিদ অন্য আরেকটা কেতাবি নাম রেখেছিলেন। নাম রাখার সময় নিজের মেয়েকে ডেকে বললেন, ‘মা সায়রা, তোর ছেলে একদিন জগৎজোড়া বিখ্যাত একজন হবে।’ নানা কি জানতেন, যার সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেলেন সে একদিন নিজে একটা গোটা দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে? তিনি শেখ মুজিবর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু। তিনি বাংলাদেশ। যার সম্পর্কে ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি।’ তখন ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাটি তার সম্পর্কে বলেছিলো , ‘মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনই জন্ম নিতো না।’ রাজনীতিটা তিনি করতেন গণমানুষের জন্যে। তিনি বজ্রকন্ঠে বলেছিলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই।“ তার মন কাঁদত কৃষক শ্রমিক নিপীড়িত মানুষের জন্য। তিনি কথা বলতেন ন্যায়ের পক্ষে। এজন্য জীবনের বড় অংশই কেটেছে যার কারাভোগ করে। মানুষটাকে ঘিরে কত কবি কাব্য রচনা করেছেন। আর তিনি রচনা করেছিলেন একটা ইতিহাস, দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। এইজন্যই নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে উল্লেখ করেছিলো, “পয়েট অফ পলিটিক্স” নামে। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। আমাদের আছে কিছু শোক। আমাদের আছে একটা কালো দিন। ১৫ই আগস্ট। যিনি পুরো জীবন দেশের জন্য উৎসর্গ করে গেলেন, যিনি আজীবন এই দেশটার মাটি আর মানুষেরে বিশ্বাস করে গেলেন, একটা পর্যায়ে এই দেশের কিছু মানুষই হলো তার ঘাতক। যিনি বলতেন, “আগে আমার দেশ,তারপরে পরিবার।” যিনি দেশের মানুষকেই সবসময় পরিবার ভেবেছেন,নিজের পরিবারকে ঠিকমতো সময় দেয়া হয়ে ওঠেনি তার। শিশু রাসেল পিতা মুজিবকে কাছে না পেয়ে মাকেই মাঝে মধ্যে বাবা বলে ডাকতো। ঘাতকরা কাউকে ছাড় দেয় নি। স্বপরিবারে নিহত করে গেলো সবাইকে, একটুও বুক কাঁপে নি তাদের? একটুও বিবেকে বাঁধে নি তাদের? বিবেক তো এখনো অন্ধকারে। আজকাল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলে কেউ কেউ চেঁচান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিক্রি করে সস্তায় বিবেক বিকিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। তাঁরা কি আদৌ জানেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কি? বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই,্ কিন্তু তার স্বপ্নকে পুষে বেচে থাকতে চান কিছু বঙ্গবন্ধু প্রেমিক।তাদের কথা-বার্তায়,আচার-আচরনে বঙ্গবন্ধু আর্দশ ফুটে উঠে। তেমনই বঙ্গবন্ধুর আর্দশ নিয়ে বতর্মান বাংলাদেশের আওয়ামী রাজনীতির এক উদীয়মান উজ্জ্বল নক্ষত্র,তরুন রাজনীতিবিদ ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবির ইমন।যিনি বঙ্গবন্ধুর আর্দশে আদর্শিত হয়ে বিলাত থেকে কাড়ি কাড়ি পাউন্ডের মায়া ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন। বহুগুনে গুন্বানিত এম এনামুল কবির ইমনের জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামে। পিতার নাম মরহুম এডভোকেট আব্দুর রইছ এম.পি, এবং মাতার নাম মরহুমা রফিকা রইছ চৌধুরী।পিতা এডভোকেট আব্দুর রইছ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলিগের আমৃত্যু সভাপতি ও সুনামগঞ্জ ৩ আসনের দু’দুবারের নির্বাচিত এম.পি ছিলেন। এবং মাতা মরহুমা রফিকা রইছ চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ছিলেন।সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসুরী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট ব্যারিস্টার এম.এনামুল কবির ইমন ১৯৮৯ সালে সুনামগঞ্জ সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস. এস.সি এবং সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে আই. এস. সি পাশ করেন। সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্ছ ভোট পেয়ে ছাত্রলীগের বার্ষিকী নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকার ভূইয়া একাডেমী থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করার পর পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে পাড়ী জমান।লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব অলভারহ্যাম্পটন থেকে এল এল বি অনার্স এবং লিংকন্স ইন থেকে বার এট ল’ ডিগ্রি অজর্ন করেন। ২০০২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীযুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্য নির্বচিত হন।ব্যারিস্টার এম.এনামুল কবির ইমন পরবর্তীতে ইংল্যান্ড যুবলীগের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়ীত্ব প্রাপ্ত হন এবং উনার স্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শিলা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সনামধন্য আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। বিলাতে অবস্থানকালে দুজনেই আইন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। অবশেষে সুনামগঞ্জের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে ২০০৪ সালে মা মাঠি ও মানুষের টানে দেশে ফিরে আসেন ব্যারিস্টার দম্পত্যি। সেদিন বিলেতের বাংলা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল বিলেতের ঝকঝকে কাড়ি কাড়ি পাউন্ডের মায়া ছেড়ে দেশে ফিরছেন ব্যারিস্টার দম্পত্যি।তখন বন্ধু-বান্ধব আতœীয়স্বজন সহ অনেকেই বলেছিলেন জেনে শুনে নিজেকে কেন নিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছ,,?? ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সহকারী এটর্নি জেনারেল হিসাবে আপীলেট ডিভিশনে সর্ব কনিষ্ঠ কৌশলীর দায়ীত্ব পালন করেন। তিনি পাওয়ারগ্রীড কোম্পানীর বোর্ড অব ডাইরেক্ট এবং পাওয়ারগ্রীডের লিগ্যাল এফেয়ার্স এর চেয়ারম্যানের দায়ীত্ব পালন করছেন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ এ টু ওয়ান এর আইন উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীযুবলীগ সুনামগঞ্জ জেলার আহবায়ক নির্বাচিত হন।২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের সবর্কনিষ্ট প্রশাসক হিসেবে সুনামগঞ্জের জেলা পরিষদ প্রশাসকের দায়ীত্ব প্রাপ্ত হন। দায়িত্ব ভার গ্রহন করেই সুনামগঞ্জকে নানন্দিক সুনামগঞ্জ হিসাবে গড়ে তুলার ঘোষনা দেন। সুনামগঞ্জবাসী ব্যারিষ্টার এম এনামূল কবির ইমনের নানন্দিক সুনামগঞ্জ গড়তে সর্বস্তরের মানুষ এক বাক্যে সমর্থ দেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীযুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্যনির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪(সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভর পুর) আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলিগের পক্ষে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করেন। ২০১৪ সালে আবারো দ্বিতীয় বারের মতো সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়ীত্বভার গ্রহন করেন। রাজনৈতিক কমর্দক্ষতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে সুনামগঞ্জের মানুষের বিদ্যুৎ সমস্যা দুর করার জন্য ১৩২- ১৩৩ কেবি মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সাবষ্টেশন স্থাপন করার অনুমতি প্রদান করেন। ব্যারিস্টার এম.এনামুল কবির ইমনের স্বচ্ছ রাজনীতিতে মুগ্ধ হয়ে ২০১৬ সালে ২৫শেফেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। আবারও সুনামগঞ্জ-৪(সনামগঞ্জ সদর-বিশম্ভপুর) আসনে নির্বাচনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন। কেননা সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জনগনকে তিনি নান্দনিক সুনামগঞ্জ উপহার দিতে চান। ইতিমধ্যে তিনি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিশাল গ্রহণযোগ্যতা তৈরিই করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোবারক হোসেন বলেন, ‘ সুনামগঞ্জ আওয়ামীগের ঘাঠি। কিন্তু জাতীয়পার্টীর এমপি হওয়ায় আমাদের সাথে দুরত্ব গড়ে উঠেছে। আর দুরত্বে¡র কারনে সুনামগঞ্জবাসী আকাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা আর পিছিয়ে পরে থাকতে চাই না। আমরা আওয়ামী লীগ করি এটা বলতেই লজ্জা সংকোচ করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছেন।আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় কিন্তু উপজেলার মানুষের কোন উপকার আমরা করতে পারছি না।’ বশম্ভপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মাষ্টার বলেন, আওয়ামীলীগের এমপি না থাকায় আমাদের উপজেলাবাসী আওয়ামীলীগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে থেকে দল থেকে পুনরায় মনোনয়ন না দিলে আমাদের সংগঠনের প্রতি জনসাধারন আস্থা হারিয়ে ফেলবে।তিনি আরও বলেন,আমাদের গর্ব নান্দনিক সুনামগঞ্জর রুপকার ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবির ইমন ভাইকে সুনামগঞ্জ-০৪ আসনের জনপ্রতিনিধি হিসাবে দেখতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকার ছোয়া আমরাও স্পর্শ করতে চাই। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জনগন সব সময় ইমনকে পাশে পােেচ্ছ। ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন টুয়েন্টি ওয়ান বাস্থবায়নে আওয়ামীলীগ সরকারকে আবার বিজয়ী করতে হবে। সে লক্ষে সুনামগঞ্জের সবকটি আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। সুনামগঞ্জবাসী মনে প্রানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছে। তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে পুষে নান্দনিক সুনামগঞ্জ গড়তে আওয়ামীলীগের বিকল্প নাই ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..