দৌলতদিয়া পতিতালয়ের ভয়ঙ্কর অজানা কাহিনী

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৮

Sharing is caring!

রাজু আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার: নবযুগের নবীন প্রভাতে পৃথিবীর দিকে দিকে নারী-প্রগতির জয়ধ্বনি ঘোষিত হলেও দৌলতদিয়া পতিতালয়ের চার হাজার নারী যৌন-কর্মী আজ আলোহীন দূর্ভেদ্য অন্তরাল হতে বাইরে এসে আলোকিত জগতের উদার প্রাঙ্গনে দাঁড়ানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাদের স্বতন্ত্র সত্ত্বা, আপন ভাগ্য জয় করার দূর্লভ অধিকারকে গলা টিপে হত্যা করে, তারা আজ গভীরতর অন্ধকার এক জগতের স্থায়ী বাসিন্দা।

মাত্র দুইশত টাকা থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে মনের শত অনিচ্ছাসত্বেও নারীর সর্বোচ্চ মূল্যবান সম্পদ ‘সম্ভ্রম’ বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্য-১৮ বছরের নিচে কোন নারী যৌন পেশায় লিপ্ত হতে পারবে না বলে আইনানুগ নিষেধাজ্ঞা সত্বেও নাবালিকা কিশোরীদরকে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। বন্দী কিশোরীদের কর্মক্ষেত্র পল্লীর ভেতরের নির্দিষ্ট অন্ধকার ছোট্ট একটি রুম।

অন্যথায়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করাসহ অনাহারে থাকতে হয়। অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে, আত্মহত্যার মত ঘটনা হার-হামেশাই দেখা যায় বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে পরিচয় গোপন রেখে কয়েকজন বাড়িওয়ালীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান,এ বাবদ স্থানীয় প্রশাসনকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে হয়।

বেশি চাপ থাকলে কিছু সময়ের জন্য কিশোরীদের লুকিয়ে রাখতে হয়। পতিতালয়ে প্রতিদিন সর্বনিম্ন দশ থেকে বার হাজার লোকজনের যাতায়াত। প্রত্যেকের কাছ থেকে পতিতাপল্লীতে প্রবেশ ও নিরাপত্তা ফি বাবদ বিশ থেকে ত্রিশ টাকা হারে নেওয়া হয়। প্রবেশ মূল্যের টিকেট বাবদ গড়ে প্রতিদিন দুইলক্ষ টাকা কমিউনিটি পুলিশের লোকজনের মাধ্যমেই সংগৃহিত হয়ে পৌছে যায় একটি প্রভাবশালী মহলের কাছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সহজ সরল মেয়েদের ভাল কর্মসংস্থানের আশ্বাস অথবা প্রেমের ফাঁদে ফেলে দালালরা এখানে নিয়ে এসে বিক্রি করে। অসহায় নারীরা যখন বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন, তখন তাদের আর কিছু করার থাকে না। মেয়ে কেনা-বেচার মাধ্যমকেও প্রচুর টাক দিতে হয়। প্রতিমাসে ওপর মহলে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রদান করতে হয়।

শুধু তাই নয়, পতিতাপল্লীর ভেতরে প্রায় বিশটি নির্দিষ্ট মাদকের দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে দেশী বাংলা মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক। মাদকাসক্ত হয়ে নাচগান করার জন্য রয়েছে উচ্চ শব্দযুক্ত গান শোনার যন্ত্র। পতিতাপল্লীকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের এক বিশাল সম্রাজ্য।

ভেতর-বাইরের প্রতিটি জুয়া ও মাদকের স্পট থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমানে বখরা দিতে হয়। তাছাড়া সামান্য অর্থের বিনিময়ে নিরাপদে বাসযোগ্য বলে দেশের অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে স্থানটিকে ব্যবহার করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দৌলতদিয়া অঞ্চলের কয়েকজন বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন-যৌনতা ও মাদকদ্রব্যের মত ঘৃণ্য বস্তুর সহজলভ্যতার শিকার হয়ে এলাকার যুবসমাজ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এদেরকে রক্ষা করতে স্থানীয় ঐক্য ও প্রশাসনের দৃঢ় হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরী। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মত ঘটনা এই অঞ্চলে নিত্যনৈমত্তিক।

এপ্রসংগে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন,আমরা প্রতিনিয়তই মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। তাছাড়া এসংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অনুসন্ধান পুর্বক যথাযোগ্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সূত্র – সময়ের কন্ঠস্বর

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares