ওসমানীতে এক আতংকের নাম রেখা বনিক!

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৮

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক রেখা বনিকের কাছেই জিম্মি গোটা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। নামটি এখন হাপাতালের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে আলোচনায় উঠে এসেছে। টানা ষোলো বছর একই হাসপাতালে চাকুরীর সুবাধে ক্ষমতার দাপটে রেখা বনিক এখন বেপরোয়া। এমন কোনও অপকর্ম নেই যা রেখা বনিকের পক্ষে করা সম্ভব নয়। সরকার দলীয় ডাক্তার নেতাদের প্রশ্রয়ে রেখা বনিক এখন হাসপাতালের এক আতংকের নাম। রেখা বণিক নানা অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ঘুষবাণিজ্য, নির্যাতন-নিপীড়নে সীমা ছাড়িয়েছেন।

Manual2 Ad Code

হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই অদৃশ্য কারণে তিনি সহযোগীদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি শক্তিধর ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে এ সব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সরকার বদলের সাথে সাথে তার রাজনৈতিক নেতারাও বদলে যান। এছাড়াও ওসমানী হাসপাতালের সাবেক এক উর্ধতন কর্মকর্তার সাথেও তার গভীর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল এবং এখনো রয়েছে বলে লোকমুখে প্রচার রয়েছে।

রেখা বণিক স্থানীয় নির্দেশে অঘোষিতভাবে বর্তমানে মেডিকেলের স্টাফ কেবিনের অর্থাৎ ১৮ নং ওয়ার্ড ইনচার্জ। একই সাথে ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজার-এর দায়িত্বও পালন করছেন। কিন্তু তিনি এ সকল দায়িত্ব এড়িয়ে সব সময় সেবা তত্বাবধায়কের কক্ষেই সময় কাটান। তাছাড়া গর্ভাবস্থায় স্টাফ নার্সদের রাত্রিকালীন (নাইট ডিউটি) না দেয়ার জন্য হাসপাতালের ঊর্ধবতন চিকিৎসকদের পরামর্শ রয়েছে। তা সত্বেও রেখা বণিক ওই সকল নার্সদের নাইট ডিউটি থেকে ছাড় দিতে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। না হলে অসহায় অবস্থায় গর্ভকালেও নার্সদের নাইট ডিউটি করতে হয়। এ সকল তথ্য জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা জানান, স্টাফনার্স হলেও দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি তাকে।

Manual4 Ad Code

নার্সদের মধ্যে যারা তার অনুগত তাদেরকে ভাল ও পছন্দমতো জায়গায় ডিউটি বন্টণ করে দেন তিনি। পদবীতে নার্স বা সেবিকা হলেও বাহ্যত তিনি একজন মেডিকেল অফিসার। সাদা ও অলিখিত কাগজে স্বাক্ষর আদায় ধর্তব্য অপরাধ হলেও রেখারানীর কাছে তা’ অধর্তব্য। প্রায়ই তিনি সাদাকাগজে হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের স্বাক্ষর নিয়ে ইচ্ছেমতো ও ব্যক্তিস্বার্থে তা ব্যবহার করে থাকেন। স্বাক্ষর দানে অপরগতা প্রকাশ করলে নেমে আসে শাস্তির খড়গ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নার্স জানান, নতুন পোষাক (ইউনিফর্ম) বানানোর নামে নার্সপ্রতি তাদের কাছ থেকে ১৬শ’ টাকা করে আদায় করেন। কিন্তু নার্সরা শেষ পর্যন্ত পোষাকই পায়নি। এব্যাপারে নার্সরা হয়রানী ও চাকুরী হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না বলে সংশি¬ষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সেবিকা রেখা রাণী বণিকের গ্রামের বাড়ি নেয়াখালী জেলায়।

১৯৯৪ সাল থেকে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবিকা পদে কর্মরত রয়েছেন। ২০০৫ সালে বিয়ে করেন শেখর বনিক নামের এক ব্যক্তিকে। কিন্তু ৭০লাখ টাকা আত্মসাত মামলায় তার স্বামী পলাতক ও দীর্ঘ আত্মগোপনে থাকায় বিয়ের পর থেকে বাহ্যত তিনি নি:সঙ্গ ও নি:সন্তান দিনযাপন করে আসছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-হোতা ও নামধারী কিছু সাংবাদিকের সাথে তার রনয়েছে গভীর সখ্যত্ আর এ কারণেই পদে সেবিকা হয়েও রেখা রাণী বনিক কার্যত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাবশালী মেডিকের অফিসার। ওসমানী হাসপাতালের নার্স রেখা বণিকের হাত থেকে রক্ষা পেতে নাম নির্যাতিত ও নিপীড়িত সেবিকারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে সেবিকা রেখা রাণী বনিক সাংবাদিকদের কাছে তার বিরুদ্ধে আনীত অন্যায়, অনাচার, আত্মসাত, ঘুষ বানিজ্য ও চাঁদাবাজির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিলনিউজ বিডিকে রেখা বনিক আরো বলেন, কর্মচারী সংকটে সাময়ীকভাবে আমাকে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলও অবগত।

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..