এস আই হাবিবের কারণে স্বর্ণ পেলেন সাংবাদিক’র স্ত্রী!

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার :: ২০১৫ সালের আগষ্ট মাস থেকে শুরু হয় হাফ পেন্ট বাহিনীর তাণ্ডবলীলা, প্রতি সপ্তাহেই শুনা যেত একই সাথে দুই বাড়িতে হাফ পেন্ট পরোয়া ডাকাত দলের হানা,স্বর্ণালংকার, টাকা পয়সা সহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট।। এর এই ধারাবাহিকতায় ১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে একই সময় নগরীর খাসদবীরে বিয়ে বাড়ি সহ দুই বাসায় হাফপেন্ট বাহিনী হানা দিয়ে প্রায় ৩৬ ভরি স্বর্ণালংকার সহ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে পরের দিন বিমানবন্দর থানায় খাসদবীরের বাসিন্দা নিয়ামত উল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার দায়িত্ব নিজ ইচ্ছায় গ্রহণ করেন তৎকালীন ওসি গৌছুল হোসেন।মামলার দায়িত্ব নেয়ার পর কোম্পানিগঞ্জ, জালালাবাদ থানার এবং বিভিন্ন একালার ডাকাতদের গ্রেফতার করলে ও আসল ডাকাতদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হন ওসি গৌছুল হোসেন।
ডাকাতি ঘটনার ৬ মাস পরে আম্বরখানা ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ ইয়াসিন ফোনে মামলার বাদী নিয়ামত উল্লাহ কে বলেন পুলিশ লাইন যাওয়ার জন্য,সেখানে বিশ্বনাথ থানার এস আই হাবিব (বর্তমানে জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার) প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছেন। নিয়ামত উল্লাহ সহ যাদের বাসায় ডাকাতি হয়েছে সবাই যার যার প্রমাণাদি নিয়ে উপস্থিত হন সিলেট পুলিশ লাইন মাঠে।সেখানে গিয়ে মামলার বাদীর বোন খাদিজা হক নীলা তার স্বর্ণালংকার সনাক্ত করলেও মামলার আই ও গৌছুল কোন ধরনের আইনি কাজ করেন নি।মামলার বাদী নিয়ামত বলেন সনাক্তের পর ওসি গৌছুল যদি শনাক্তকৃত স্বর্ণ আলাদা করে টি আই প্যারেড এর ব্যবস্থা করতেন তাহলে আরো আগে শনাক্তকৃত সবগুলা স্বর্ণ আরো আগেই আমাদের জিম্মায় নিয়ে আসতেতে পাড়তাম। তিনি বলেন ওসি গৌছুল এর অবহেলার জন্য পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে মামলার ডিবিতে হস্থান্তর করা হয়।
পুলিশ লাইন এ স্বর্ণালংকার সনাক্তের পরে আদালতের দারস্থ হন মামলার বাদী নিয়ামত উল্লাহ ও তার বোন খাদিজা হক নীলা।
আদালত স্বর্ণালংকার এর মালিক খাদিজাকে নির্দেশ দেন যে থানা উদ্ধার করেছ এই থানার আই ও রিপোর্ট দিতে হবে। বিশ্বনাথ থানার এস আই হাবিবুর রহমান লিমন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এখন চার্জশিট এর সময় এসে গেছে। তিনি বলেন আপনাদের মামলার আই ও চাইলে আরো আগে আপনাদের স্বর্ণ নিয়ে যেতে পারতেন।এর পরে ও আমার ধারা যতটুকু সম্ভব আমি সহযোগীতা করবো।এস আই হাবিব তার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে একটি সিতা হার ও একটি চেইন খাদিজার বলে চার্জশিট এ উল্লেখ করেন।
গত ১০ ডিসেম্বর ছিল মামলার ধার্য্য তারিখ। সিলেট বারের সভাপতি এডভোকেট লালা উদ্ধারকৃত স্বর্ণ মালিকের জিম্মাদারিতে দেয়ার আবেদন করলে সিএমএম কৌর্ট এর ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম হিরু আদেশ প্রদান করেন স্বর্ণ গুলি মালিকের জিম্মায় প্রদানের জন্য।
অর্ডারশীট পৌছার পর আজ সোমবার মামলার বাদী নিয়ামত উল্লার মাধ্যমে স্বর্ণের মালিক এমদাদুল হক সোহাগ ও খাদিজা হক নীলার হাতে হস্থান্তর করেন ইন্সপেক্টর মুজিবুর রহমান।
স্বর্ণ নিজ জিম্মায় পেয়ে খাদিজা হক নীলা বলেন বিশ্বনাথ থানার এস আই হাবিবুর রহমান এর কারনেই আমার ডাকাতিকৃত স্বর্ণ ফিরে পেয়েছি,উনার সার্বিক সহযোগীয় আমার স্বামীর দেয়া স্বর্ণালংকার ফিরে পেলাম।
উল্লেখ্য যে এস আই হাবিবুর রহমান লিপন কর্তৃক ডাকাত সর্দার রেখা সহ ৫ জন ডাকাত সহ মোট ১৮ জন আন্তজেলা ডাকাত গ্রেফতার করেন। তম্মধে ১০ জন ডাকাত বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তী প্রদান করে। স্বর্নালংকার, রুপা, ৫৩টি মোবাইল সেট, টিভি,ল্যাফটপ, ক্যামেরা, বিদেশী মুদ্রা, নগদ টাকা সহ ৫০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল উদ্ধার করেন।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

December 2017
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares